মির কাশিমের সঙ্গে ব্রিটিশ কোম্পানির বিরোধের ক্ষেত্রে কোম্পানির বণিকদের ব্যক্তিগত ব্যাবসার কী ভূমিকা ছিল? বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রভাব কী হয়েছিল?
সতেরোশো ষাট খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে ব্রিটিশ কোম্পানির দৌলতে মীর কাশিম তাঁর শ্বশুর মীরজাফরের পরিবর্তে বাংলার মসনদে আরোহণ করেন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বেআইনি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বাংলার অর্থনীতি সমস্যার মুখে পড়ছে। একদিকে কোম্পানির বণিকরা শুল্ক ফাঁকি দেওয়ায় নবাবের প্রাপ্য রাজস্বে ঘাটতি পড়ছিল, অন্যদিকে দেশীয় বণিকরা শুল্ক দিতে বাধ্য হওয়ায় অসম প্রতিযোগিতায় তাদের ব্যবসা প্রায় উঠে যেতে বসেছিল। ফলে সরকারি কোশাগার ভয়ংকর অর্থসংকটের মুখে পড়ে। এই কারণে কোম্পানির বিরুদ্ধে মীর কাশিম যুদ্ধের ষড়যন্ত্র করতে থাকেন।
১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ কোম্পানির কাছে মীর কাশিম মারাত্মকভাবে হেরে গিয়ে পালিয়ে যান। কোম্পানি মৃত মীরজাফরের পুত্র নজম উদ-দৌলাকে নামকাওয়াস্তে নবাবের মসনদে বসায়। এ ছাড়া বক্সারের যুদ্ধে স্বয়ং দিল্লির সম্রাট বাদশাহ আলম জোটবদ্ধ হয়েছিলেন বলে তিনি ইংরেজদের বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানির অধিকার প্রদান করেন। ফলে বাংলায় দুজন শাসকের ভূমিকা দেখা দেয়। নবাব নজম উদ-দৌলা রাজনৈতিক ও নিজামতের দায়িত্ব লাভ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করেন। অন্যদিকে ইংরেজরা অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব ও রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করলে বাংলার প্রজাসাধারণ প্রায় অর্ধভুক্ত জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
