ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিশের বিচারব্যবস্থার সংস্কারের তুলনামূলক আলোচনা করো। ওই সংস্কারগুলির প্রভাব ভারতীয়দের ওপর কীভাবে পড়েছিল?
সতেরোশো বাহাত্তর খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তরফে বিচারব্যবস্থার সংস্কার করেন। ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে সমস্ত বিচারবিভাগীয় আদেশ লিখে রেখে দেওয়ানি আদালতগুলিকে একই নিয়মের অধীনে আনার চেষ্টা করেন। বিচারে সমতা আনয়নের জন্য ওয়ারেন হেস্টিংস ১১ জন পণ্ডিতকে দিয়ে হিন্দু আইনগুলির সংস্কার করেন এবং ওই সংকলনের ইংরেজি অনুবাদ করে ইউরোপীয় বিচারকদের সুবিধা করে দেন। তিনি মুসলমান আইনগুলিরও একটি সংকলন করিয়ে ঔপনিবেশিক বিচারব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তুলেছিলেন। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিশ আইনগুলিকে সংহত করে কোড বা বিধিবদ্ধ আইন চালু করলে দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব আলাদা হয়ে যায়। ওয়ারেন হেস্টিংসের সময়ে রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত কোনো মামলা সুপ্রিমকোর্টে নিয়ে যাওয়া যেত না। কিন্তু কর্নওয়ালিশের সময় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আবেদনের অধিকার স্বীকার করা হয়।
বিচারব্যবস্থায় ইউরোপীয় সংস্কারের ফলে এ দেশের জনগণের মধ্যে একপ্রকার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বিচারব্যবস্থাকে চূড়ান্ত রায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ইউরোপীয় বিচারকদের ওপরেই। কিন্তু তাঁরা এ দেশের হিন্দু আইন কিংবা মুসলমান আইন ঠিক ঠিক বুঝতেন না বলে তাঁদের বিচারে একপ্রকার মনগড়া রায় দিয়ে জনগণকে বিপদের মুখে ফেলে দিতেন। তবে প্রথম দিকে যেমন ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে রাজস্ব আদায়ের কোনো মামলা সুপ্রিমকোর্টে নিয়ে যাওয়া যেত না বলে জনগণকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো, কর্নওয়ালিশের সময়ে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ করে দিয়ে তা অনেকটাই লাঘব করা হয়।
