ইউরোপে মঠতন্ত্রের বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর
মধ্যযুগীয় ইউরোপে ধর্মীয় জীবনের অপরিহার্য একটি অঙ্গ হল মঠ, মূলত গৃহজীবনে গির্জা এবং সন্ন্যাস জীবনে মঠ মধ্যযুগের কর্মজীবনের উৎপত্তি তারপর Monk বা সন্ন্যাসী থেকে মঠ তন্ত্রের উৎপত্তি । আবার Monk শব্দের উৎপত্তি মোশাকস যার অর্থ নিঃসঙ্গ। মূলত মঠের অধিবাসীরা নিঃসঙ্গ ভাবে থাকত বলে এমন নামকরন, আবার মঠকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের জীবনচর্চা ও কর্ম পদ্ধতি বেষ্ঠিত ছিল বলে তাকে যাজক তন্ত্র থেকে মঠতন্ত্রে আখ্যায়িত করা হয় । মূলত সাধনার জীবন সন্ন্যাসীদের মঠবাসী করে তুলেছিল ৷
আমরা ইউরোপের মঠতন্ত্রের বিকাশে একাধিক কারন লক্ষ করি । মানুষ উপলব্দি করে ভোগবিলাসিতা এবং পার্থিব বস্তুই অবক্ষয়ের মূল কারণ । কারন এসময়ে রোমান সম্রাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রী এবং ভূস্বামীরা এতোটাই ভোগবিলাসিতায় এবং অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক জীবনে লিপ্ত হয়েছিল, যে নিরীহ জনগণের সাধারণ দুর্ভোগ তো দূরের কথা বর্বর 'আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো চেষ্টায় তারা করেনি, তাই তারা মনে করেছিলেন পারিবারিক জীবন পরিহার করে ঈশ্বর চিন্তায় নিমগ্ন হওয়াটা অবিক শ্রয় ।
আমরা অচলিত খ্রিস্টধর্মে যদি আলোকপাত করি তাহলে দেখব খ্রিস্টের বানী এই মঠবাসী বা সন্ন্যাসী বাসীদের অনুপ্রেরণা জোগায়, এই বিষয়ে যে নিঃসত্তা জীবন গার্হস্থ্য জীবণ তা অপেক্ষা অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়, এই ধর্মের গরীব ব্যক্তিকে ধর্মী ব্যক্তির চেয়ে ঈশ্বরের অধিক কাছের বলে মনে করা হয় । এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় সন্ন্যাসবাদের সন্ন্যাসীরা "আত্মা পরিশুদ্ধির জন্য নিজেল্পের উপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন, যেমন- উত্তপ্ত মরুভূমিতে সূর্যের দিকে তাকিয়ে ঘন্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা, ঠান্ডার সময় একগলা জলে নেমে দাঁড়িয়ে থাকা, শরীরে চরম আঘাত করা, কণ্টকময় রাস্তা দিয়ে হেটে চলা ইত্যাদি, এই পদ্মা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হলেও এথেকে মানুষ সংঘবদ্ধ সন্ন্যাসজীবনে অনুপ্রাণিত হয় ।