আইন অমান্য আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণের চরিত্র এবং সূর্য সেন ও ভগৎ সিং-এর সংগ্রাম
আইন অমান্য আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণের চরিত্র কেমন ছিল? সূর্য সেন ও ভগৎ সিং-এর সংগ্রাম কি গান্ধির মতামতের সহগামী ছিল?
১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেস পূর্ণ স্বরাজের দাবি করে। ডাক দেওয়া হয় আইন অমান্য আন্দোলনের। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৬ এপ্রিল গুজরাটের ডান্ডিতে অভিযান করে গান্ধি লবণ আইন ভঙ্গ করেন। অর্থাৎ, গান্ধি প্রতীকী ভাবে ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসনকে অস্বীকার করেন। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত দেশজুড়ে আইন অমান্য আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ হরতাল ও বিক্ষোভে যোগ দিতে থাকে। সরকারকে কর দেওয়া বন্ধ করার পাশাপাশি বিদেশি দ্রব্য বয়কট শুরু হয়। কৃষকরা রাজস্ব দিতে অস্বীকার করে। ব্যাপক সংখ্যায় নারীরা আন্দোলনে যোগ দেয়। ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে খান আবদুল গফফর খানের নেতৃত্বে পাঠানরা আইন অমান্য আন্দোলনে শামিল হয়। পেশোয়ারে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সিপাহিরা অহিংস আন্দোলনকারীর ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করে। মণিপুরি ও নাগাদের মধ্যেও আইন অমান্য আন্দোলন সাড়া জাগিয়েছিল।
১৯৩২ খ্রিস্টাব্দেও আবার আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৩২ থেকে ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য জেলবন্দি হন। তবে এই আন্দোলনে, অসহযোগ আন্দোলনের সময় যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ছিল তেমনটা এই আইন অমান্য আন্দোলনে ছিল না। শহুরে শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত মানুষের যোগদান আইন অমান্য আন্দোলনে কম ছিল। এই আন্দোলনে শ্রমিকরাও কম যোগ দিয়েছিলেন। এই আন্দোলনে অবশ্য কৃষক ও ব্যবসায়ীরা অধিক সংখ্যায় যুক্ত হয়েছিলেন।
ভগৎ সিং ও সূর্য সেনের সংগ্রাম গান্ধির সংগ্রামের সহগামী ছিল না। গান্ধির অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন শেষের দিকে আদর্শ হারিয়ে ফেললেও তাঁর সংগ্রামে বিপ্লবী সন্ত্রাস ছিল না। কিন্তু সূর্য সেন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে সরাসরি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন। ভগৎ সিং আন্দোলনের নামে ব্যক্তিগত হত্যার নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাই তিনি পুলিশের হাতে নিহত লালা লাজপৎ রাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পুলিশ সুপার স্যান্ডার্সকে হত্যা করেন।
