গান্ধির অহিংস সত্যাগ্রহের আদর্শটি ব্যাখ্যা করো। ওই আদর্শের সঙ্গে কংগ্রেসের প্রথম দিকের নরমপন্থীদের আদর্শের একটি তুলনামূলক আলোচনা করো।
ভারতে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বদেশি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে গান্ধিজি দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যবিরোধী একটি আন্দোলন চালিয়েছিলেন। সেই আন্দোলন থেকেই ধীরে ধীরে গান্ধিবাদী 'সত্যাগ্রহ'-এর ধারণা তৈরি হয়েছিল। গান্ধিজির 'সত্যাগ্রহ' ও 'অহিংসা'-র আদর্শগুলি পরস্পর সম্পর্কিত। এই দুটিকে একসঙ্গে 'অহিংস সত্যাগ্রহ'ও বলা হয়। গান্ধিজি মনে করতেন, সত্যের খোঁজ করাই মানবজীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। ফলে সত্যের প্রতি আগ্রহ বা সত্যের প্রতিষ্ঠা রাজনৈতিক আন্দোলনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি হিংস্র পথে রাজনৈতিক প্রতিবাদ-প্রতিরোধের পন্থাকেও এড়িয়ে চলা উচিত। অধিকাংশ জনগণকে আন্দোলনে টেনে আনার মাধ্যমেই অহিংস সত্যাগ্রহ সফল হবে। অহিংস ও সত্যাগ্রহের আদর্শ জনগণকে মেনে চলতে হবে কঠোরভাবে।
আদিপর্বে জাতীয় কংগ্রেসের রাজনৈতিক পন্থা ছিল, ভারতে অ-ব্রিটিশসুলভ কিছু শাসনপদ্ধতি সংশোধনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন নীতি অবলম্বন করা। নরমপন্থীরা চাইতেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও শাসনের আওতায় থেকেই ভারত আংশিক স্বশাসন ভোগ করবে। আইনসভাগুলিতে নরমপন্থীদের দাবি ছিল ভারতীয়দের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। কিছু কিছু সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের লক্ষ্যেই তাঁদের প্রতিবাদ-আন্দোলনসমূহ পরিচালিত হচ্ছিল।
তুলনামূলক আলোচনা: গান্ধিজি ও কংগ্রেসের প্রথম দিকের নরমপন্থীদের আদর্শের মধ্যে কিছু মিল ও অমিল উভয়ই লক্ষ করা যায়। উভয়েই স্বাধীনতা বা রাজনৈতিক অধিকার অর্জনে হিংস্র পন্থার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক পথকে বেছে নিয়েছিলেন। নরমপন্থীদের মতো গান্ধিজিও ব্রিটিশ সরকারকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করে বরং তাকে প্রভাবিত ও নমনীয় করে ভারতীয়দের রাজনৈতিক দাবিদাওয়া পূরণের চেষ্টা করেছিলেন। তবে নরমপন্থীদের আবেদন-নিবেদনের 'ভিক্ষাবৃত্তি' নীতি বা সীমাবদ্ধ পরিসরের পরিবর্তে গান্ধিজি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক গণআন্দোলন বা 'সত্যাগ্রহ'-এর পথ ধরেছিলেন, যা ছিল নরমপন্থী রাজনীতির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অনেক বেশি শক্তিশালী।
