অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল? ওই আন্দোলন রদ করার বিষয়ে গান্ধিজির সিদ্ধান্তের সঙ্গে কি তুমি একমত?
অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের অর্থ হলো, সরকারের যাবতীয় কাজে জনগণের কোনো রকম সহযোগিতা না করা এবং কোনো প্রকার হিংসার নীতি অবলম্বন না করা। অসহযোগ আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে ছিল—সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্জন করা, সরকারি আইন আদালত ও উপাধি বর্জন করা, বিদেশি দ্রব্য বয়কট করা এবং তার পরিবর্তে নিজস্ব জাতীয় বিদ্যালয় ও স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে ভারতবর্ষের হিন্দু ও মুসলমানদের একজোট করে গান্ধ이지 ব্রিটিশ-বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনে স্কুল-কলেজের ছাত্র থেকে শুরু করে আইনজীবী ও কৃষক-শ্রমিক—সর্বস্তরের মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। বিদেশি দ্রব্য বয়কটের পাশাপাশি জনসমক্ষে বিদেশি কাপড় পোড়ানোর হিড়িক বেড়ে গিয়েছিল।
কিন্তু একসময় এই আন্দোলনের চরিত্র অহিংস রূপ বজায় রাখতে পারেনি। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা গ্রামের স্থানীয় মানুষেরা প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হলে পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ক্ষুব্ধ জনতা থানায় আগুন লাগিয়ে দিলে এক পুলিশকর্মীসহ বেশ কয়েকজন পুড়ে মারা যান। এই হিংসাত্মক ঘটনার খবর পেয়ে গান্ধিজি অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং অবিলম্বে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
গান্ধিজির আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমার মতামত: চৌরিচৌরার ঘটনার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক জাতীয়তাবাদী নেতা (যেমন সুভাষচন্দ্র বসু ও চিত্তরঞ্জন দাস) গান্ধিজির এই হঠকারী সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের মতো আমিও মনে করি, একটি বিচ্ছিন্ন হিংসাত্মক ঘটনার জন্য সমগ্র দেশের একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও তুঙ্গে থাকা গণআন্দোলন হঠাৎ এভাবে থামিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। তবে গান্ধিজির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করলে, তিনি বিশ্বাস করতেন যে সত্যাগ্রহের ভিত্তি হলো সম্পূর্ণ অহিংসা; আন্দোলন হিংসার পথে পরিচালিত হলে ব্রিটিশ সরকার আরও নির্মম দমননীতি প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়ে যাবে। তবুও রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে ব্রিটিশের মতো প্রবল শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গণআন্দোলনকে মাঝপথে এভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া দেশের জনগণের মনোবল কিছুটা হলেও ভেঙে দিয়েছিল।
