মুরশিদকুলি খান ও আলিবর্দি খান-এর সময়ে বাংলার সঙ্গে মুঘল শাসনের সম্পর্কের চরিত্র কেমন ছিল?
মুঘল বাদশাহ ঔরঙ্গজেব শেষ বয়সে সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে একমাত্র বাংলা প্রদেশ থেকে প্রাপ্য রাজস্বের ওপরেই খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাই বাংলা থেকে যাতে নিয়মিত সুষ্ঠুভাবে রাজস্ব আদায় হয় সেইজন্য মুরশিদকুলি খানকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ করেন। ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর সম্রাট ফাররুখশিয়র মুরশিদকুলি খানের দেওয়ান পদ পাকাপাকি করে দেন। ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে ফাররুখশিয়র তাঁকে বাংলার দেওয়ান ও নাজিমের দায়িত্ব দিয়ে দিলে সুবা বাংলায় মুরশিদকুলি খানের নেতৃত্বে অচিরেই শক্তিশালী আঞ্চলিক রাজ্যের উত্থান ঘটে। ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দে মুরশিদকুলি খানের মৃত্যুকাল পর্যন্ত বাংলার সঙ্গে মুঘল শাসকদের সম্পর্ক ভালোই ছিল।
মুরশিদকুলি খানের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিবাদ শুরু হলে তাঁরই সেনাপতি আলিবর্দি খানকে সুবা বাংলার মসনদে বসিয়ে দেন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী জগৎ শেঠ ও বাংলার কয়েকজন ক্ষমতাশালী জমিদার। মূলত এই সময়েই মুঘলদের হাত থেকে সুবা বাংলার অধিকার লুপ্ত হয়ে যায়। দিল্লিতে মুঘল সম্রাটকে শাসনতান্ত্রিক বিষয়ে কোনো খবরাখবর আদৌ দেওয়া হত না। তা ছাড়া মুঘল দরবারে নিয়মিত রাজস্ব পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। আনুষ্ঠানিকভাবে মুঘল কর্তৃত্বকে সম্মান জানানো হলেও বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায়—অর্থাৎ সুবা বাংলায়—কার্যত আলিবর্দি খানের নেতৃত্বেই স্বশাসিত প্রশাসন চালু হয়ে যায়।
