ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানির আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি থেকে স্বত্ববিলোপ নীতিতে বিবর্তনকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?

ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানির আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি থেকে স্বত্ববিলোপ নীতিতে বিবর্তনকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?

ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানির আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি থেকে স্বত্ববিলোপ নীতিতে বিবর্তনকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?

ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানির আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি থেকে স্বত্ববিলোপ নীতিতে বিবর্তনকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?

ষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ ভারতের আঞ্চলিক শক্তিগুলি প্রায়ই ক্ষমতা বিস্তারের নেশায় পরস্পরের মধ্যে বিবাদ করত। ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ শাসক এই বিবাদকে তাঁদের সুষ্ঠু শাসনের পক্ষে বিপদ বুঝে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রবর্তন করেন। ওই নীতি প্রয়োগ করে তিনি বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ কোম্পানির শাসন বিস্তার প্রক্রিয়ায় অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রাথমিক এক কৌশল বলা যায়। ভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র শাসকরা ব্রিটিশ শক্তিকে তাদের সাহায্যকারী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করত। তাই কোনো কোনো রাজ্য তার প্রতিবেশী রাজ্যের কাছে পরাধীন হয়ে যাওয়ার ভয়ে ওই নবাগত ব্রিটিশ শক্তির সাহায্য প্রার্থনা করত ।

Related Posts

লর্ড ওয়েলেসলি তাঁর ওই সুকৌশলী অধীনতামূলক নীতির মাধ্যমে অনেকগুলি স্বাধীন রাজ্যকে নিজের দখলে নিয়ে নেন। প্রথমেই হায়দরাবাদের নিজাম স্বেচ্ছায় অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি স্বীকার করে নেন। কিন্তু মহীশূরের নেতা হায়দার আলি ও তাঁর পুত্র টিপু সুলতান অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি না মেনে নেওয়ায় ব্রিটিশ কোম্পানি ১৭৬৭থেকে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দ অবধি মোট চারটি যুদ্ধ করে। ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ নামে ইতিহাসখ্যাত এই যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে টিপু সুলতান নিহত হলে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির মাধ্যমে ইংরেজ কোম্পানি সরাসরি মহীশূর রাজ্য দখল করে সেখানে কোম্পানির সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। ওই একই প্রক্রিয়ায় ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ কোম্পানি উত্তর ভারতের অযোধ্যা দখল করে। ১৮১৭-১৯ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের মাধ্যমে দাক্ষিণাত্য ও দক্ষিণ ভারত দখল করে। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ভারতের পঞ্জাবে অশান্ত পরিস্থিতির অজুহাতে জলন্ধর দোয়াবে ব্রিটিশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

ভারতীয় শাসকদের মধ্যে যে রাজ্যে পুরুষ উত্তরাধিকারী থাকত না তাদের রাজ্য দখল করতে লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করেন। এই নীতিকে ব্রিটিশদের সমগ্র ভারত আগ্রাসনের চূড়ান্ত অস্ত্র বলা যায়। এই স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে ডালহৌসি প্রথমে সাতারা, সম্বলপুর, ঝাঁসি ইত্যাদি দখল করে নেন। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনি এভাবে ভারতীয় উপমহাদেশের ষাট ভাগেরও বেশি অঞ্চলে ব্রিটিশ কোম্পানির সম্পূর্ণ দখলদারি কার্যকর করেন।

Related Posts

About the author

Irisha Tania
"আমি সেই মেয়ে, যে শব্দে বাঁচে। কলম আমার অস্ত্র, আর কাগজ আমার স্বপ্নের আকাশ। প্রতিটি অনুভব, প্রতিটি চিন্তা আমি সাজিয়ে রাখি অক্ষরের গাঁথুনিতে। কখনো গল্পে, কখনো কবিতায়, আবার কখনো নিঃশব্দের ভেতরে। আমি লিখি, কারণ লেখার মাঝে আমি নিজেকে খুঁজে পাই। …

Post a Comment

🌟 Attention, Valued Community Members! 🌟