অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের পরে কীভাবে মুসলমান নেতাদের অনেকের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল?
মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে কংগ্রেসের ভিত্তি প্রসারিত করার জন্য গান্ধি খিলাফৎ সমস্যাকে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের অন্যতম দাবি রূপে অন্তর্ভুক্ত করে নেন। গান্ধি ও খিলাফতিরা একযোগে ব্রিটিশ-সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার কর্মসূচি প্রচার করতে থাকেন। কিন্তু ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলন তুলে নেওয়া হলে খিলাফৎ আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে, খিলাফৎ নেতারা গান্ধির অহিংস নীতি ততটা গ্রহণ না করে গান্ধির সর্বজনগ্রাহ্যতাকে ব্যবহার করে জনগণের কাছে পৌঁছোতে চেষ্টা করেছিলেন। তা ছাড়া এই আন্দোলনে উলেমাদের উপস্থিতি ও ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহারে ইসলাম ধর্মীয় ভাবাবেগ জাগিয়ে তোলায় হিন্দু-মুসলমান ঐক্যে খানিকটা দূরত্ব তৈরি হয়। পাশাপাশি সমানভাবে বাড়তে থাকে উগ্র হিন্দু পুনরুজ্জীবনমুখী আন্দোলন।
Related Posts
এই সময় হিন্দু মহাসভার মতো উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলির শক্তি বাড়তে থাকে। কংগ্রেসের সঙ্গে এই সংগঠনগুলির তৈরি হয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। মদনমোহন মালব্য প্রমুখ নেতাদের গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী কার্যকলাপ কংগ্রেসে প্রাধান্য লাভ করায় মুসলমান সম্প্রদায় ক্রমশ কংগ্রেসের থেকে আরও দূরে সরতে থাকে। উগ্র হিন্দু নেতাদের চাপে মোতিলাল নেহরুর মতো স্বরাজ্যপন্থী নেতারা হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হন। মোহম্মদ আলি জিন্নাহও স্বরাজ্যপন্থীদের সঙ্গে বোঝাপড়ায় ছিলেন উৎসাহী। কিন্তু ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলা ও পঞ্জাবে। কংগ্রেসের মধ্যে কোনো মুসলমান প্রার্থী ছিল না। ফলে শওকত আলির মতো সম্প্রীতিবাদী নেতারাও কংগ্রেসের মধ্যে উগ্র হিন্দু মতামতের বাড়বাড়ন্তে হতাশ হয়ে পড়েন।
