জাতীয় রাজনীতিতে সুভাষচন্দ্র বসুর উত্থানের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করো। সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক চিন্তার ওপর কোন্ কোন্ বিষয় ছাপ ফেলেছিল বলে তোমার মনে হয়?
সুভাষচন্দ্র যখন রাজনীতিতে যোগ দেন, তখন ভারতের সাধারণ জনগণ গান্ধির নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। উচ্চবর্গের আলাপ-আলোচনার বাইরে সাধারণ মানুষদেরও যে রাজনৈতিক ভূমিকা আছে তা ভারতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল। ১৯২০-র দশকে সুভাষচন্দ্র সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে চিত্তরঞ্জনের নেতৃত্বে বাংলার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সুভাষচন্দ্র গান্ধির অহিংসার অহিংস আদর্শে পুরোপুরি বিশ্বাসী না হলেও গান্ধির অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে তাঁকে। জেলে যেতে হয়। চিত্তরঞ্জনের সঙ্গে স্বরাজ্য দলে যোগ দিয়েও তিনি বারবার জেলে গিয়েছিলেন। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে চিত্তরঞ্জনের মৃত্যু হলে সুভাষচন্দ্র নিজের উদ্যোগে পূর্ণ স্বরাজের পক্ষে বক্তব্য প্রচার করতে থাকেন। ব্রিটিশ সরকারের প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থাকে তিনি নাকচ করে দিলে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা অধিবেশনে গান্ধির সঙ্গে তাঁর সংঘাত শুরু হয়। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে গান্ধি আইন অমান্য আন্দোলন তুলে নিলে সুভাষচন্দ্র তার তীব্র সমালোচনা করেন।
Related Posts
১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থান দেখা দিয়েছিল। সুভাষচন্দ্র পূর্ণ স্বরাজের লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তাই তিনি বিশ্বযুদ্ধের ভয়ংকর সময়ে জার্মান শক্তির কাছে ব্রিটিশ পরাজয়ের তীব্র সম্ভাবনা অনুমান করে জাপানে গিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ বা স্বাধীন ভারতের যুদ্ধকালীন সরকারের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করে সুভাষচন্দ্র তার প্রধানমন্ত্রী ও বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হন। সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক চিন্তার ওপর ইটালির বেনিতো মুসোলিনির দুর্নীতি দূরীকরণ ও সামাজিক সেবা প্রকল্পগুলি গভীরভাবে ছাপ ফেলেছিল।
