জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হিউমের ভূমিকার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করো। তোমার কি মনে হয় হিউম না থাকলেও জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হতো?

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হিউমের ভূমিকার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করো। তোমার কি মনে হয় হিউম না থাকলেও জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হতো?

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হিউমের ভূমিকার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করো। তোমার কি মনে হয় হিউম না থাকলেও জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হতো? 

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হিউমের ভূমিকার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করো। তোমার কি মনে হয় হিউম না থাকলেও জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হতো?

কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পিছনে অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজ কর্মচারী অ্যাল্যান অক্টিভিয়ান হিউম-এর উদ্যোগ ছিল। হিউম তাঁর সরকারি কাজের সূত্রে গোটা ভারত উপমহাদেশে ঘুরেছিলেন। সেই সুবাদে বিভিন্ন প্রদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। ভগীরথের মতো হিউম সেই নেতৃবৃন্দকে তাঁদের দাবিদাওয়া কিংবা অভাব-অভিযোগ নিয়ে একসঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য বলতে থাকেন। হিউমের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস উনবিংশ শতকের শেষ দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তার আগে মূলত কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে আঞ্চলিক গোষ্ঠীস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আরও অনেক সভাসমিতি গড়ে উঠেছিল। তবে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্য থাকলেও ধীরে ধীরে এই সংগঠনগুলি আঞ্চলিক স্তরে জাতীয়তাবাদের প্রসারে যথেষ্ট ভূমিকা নিয়েছিল। যেমন—নবগোপাল মিত্রের জাতীয় মেলা বা হিন্দু মেলা, শিশিরকুমার ঘোষের ইন্ডিয়ান লিগ (১৮৭৫ খ্রি.), কর্নেল অলকট ও মাদাম লাভাটস্কির থিওসফিক্যাল সোসাইটি এবং সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসুর ভারতসভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৭৬ খ্রি.) ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার আগে পর্যন্ত সময়কালকে তাই অনেকে 'সভাসমিতির যুগ' বলেছেন। কিন্তু এই সভাসমিতিগুলি সর্বভারতীয় স্তরে জোটবদ্ধ হওয়ার কোনো যোগসূত্র ছিল না। হিউম সেই জোটবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে যে যোগসূত্রটি স্থাপন করে দেন তা ভারতবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।

হ্যাঁ, আমি মনে করি, হিউম না থাকলেও উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতবর্ষে যেভাবে ঔপনিবেশিক-বিরোধী ক্ষোভ বিভিন্ন সভাসমিতির মধ্যে ধূমায়িত হচ্ছিল, তাতে জাতীয় কংগ্রেসের মতো একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠন অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হতো। কারণ সেই সময়ে ভারতের উদীয়মান শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের অধিকার ও দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য একটি সর্বভারতীয় মঞ্চের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করছিলেন। হিউম হয়তো অনুঘটকের বা 'সেফটি ভালভ'-এর কাজ ত্বরান্বিত করেছিলেন, কিন্তু ভারতীয় জাতীয়তাবাদের যে উন্মেষ ঘটেছিল, তা কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল না।

আপনি চাইলে এগুলো পড়তে পারেন

লেখিকার সম্পর্কে

Irisha Tania
"আমি সেই মেয়ে, যে শব্দে বাঁচে। কলম আমার অস্ত্র, আর কাগজ আমার স্বপ্নের আকাশ। প্রতিটি অনুভব, প্রতিটি চিন্তা আমি সাজিয়ে রাখি অক্ষরের গাঁথুনিতে। কখনো গল্পে, কখনো কবিতায়, আবার কখনো নিঃশব্দের ভেতরে। আমি লিখি, কারণ লেখার মাঝে আমি নিজেকে খুঁজে পাই। …

Post a Comment

🌟 Attention, Valued Community Members! 🌟