ভারতে কোম্পানি-শাসনের বিস্তার ও সেনাবাহিনীর বৃদ্ধির মধ্যে কি সরাসরি সম্পর্ক ছিল বলে মনে হয়?
বৃটিশরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন গঠন করে তখন মুঘল আমলের পুলিশি ব্যবস্থা বিশেষ কার্যকরী ছিল না। তাই ক্রমাগত বাড়তে থাকা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বুঝে পুলিশি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ইউরোপীয় তদারকির অধীনে ঢেলে সাজানো হয়। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কোম্পানির শাসনের ব্যাপক বিস্তার ঘটলে ক্রমে আলাদা পুলিশ গঠিত হয়। কিন্তু এ দেশে ক্রমাগত ব্রিটিশ কোম্পানির অধিকারকে সাধারণ জনগণ মেনে নিতে পারেনি বলে তারা ঘোরতর বিরোধী হয়ে ওঠে। ওই ভয়ংকর পরিস্থিতি পুলিশ বাহিনী দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হলো না। প্রয়োজন হয়ে উঠল সেনাবাহিনীর। ফলে ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমানুপাতিকভাবে বেড়ে উঠল কোম্পানির সেনাবাহিনী। সেক্ষেত্রে মুঘল সেনা নিয়োগের প্রথা অবলম্বন করে ব্রিটিশ কোম্পানিতে উত্তর ভারতে কৃষকদের সেনাবাহিনীতে নেওয়া হতো। এভাবে সিপাহি নিয়োগের মাধ্যমে ভারতবর্ষে কোম্পানির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়েছিল।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে সিপাহিবাহিনী ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের দশকে এ দেশে ব্রিটিশ কোম্পানির সেনাবাহিনীতে প্রায় ২,৫০,০০০ সিপাহি নিয়োগ করা হয়েছিল। তাদের জন্য খরচ করা হতো আদায়কৃত মোট রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ। কোম্পানির একটাই লক্ষ্য—ভারতীয় উপমহাদেশ সম্পূর্ণ গ্রাস করা। তার জন্য এই সেনাবাহিনীর অস্ত্রের ঝনঝনানির দ্বারা উদ্ভূত বিরোধিতার উপযুক্ত মোকাবিলা করা ছিল ব্রিটিশ প্রশাসকদের কাজ।
